মোঃ রিফাত পাটোয়ারী

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে বিশ্বব্যাপী সবাই ঘরবন্দী। বন্ধ স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক লকডাউন শুরুর পর শিক্ষা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিলেন। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করে।

বিশেষ করে বাংলা মাধ্যমের স্কুলগুলো যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে যেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শিক্ষাবর্ষের ক্ষতি না হয়।চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর ব্যতিক্রম নয়। কয়েক মাস ধরেই নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উ’বি অনলাইনে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে এর সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করাচ্ছে।

নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সকল শিক্ষকবৃন্দ তারা সব সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে প্রচেষ্টা থাকে। তাই ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা প্রদানের জন্য তারা বেশ সফলতার সঙ্গেই অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করে মার্চ মাসে লকডাউন শুরুর পর থেকেই।

নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরনী বলেন, শিক্ষার্থীরা স্কুলে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও অনলাইনে তাদের শিক্ষা ও ক্লাসে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না; বরং অনলাইনে ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোভিড–পরবর্তী বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সুবিধা সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক শিরনী আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের ঘরে বসেই নিরাপদে ক্লাস করতে পারছে। অভিভাবকেরা জানেন, তাঁদের সন্তান বাইরে অন্য শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের সংস্পর্শে আসছে না এবং বাড়িতেই নিরাপদে থাকছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই শিখতে পারছে কীভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয় বা ঘরে বসেই অফিসের কাজ করা যায়, যা ভবিষ্যতে তাদের প্রয়োজন হবে।

নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উ’বি দিন দিন তাদের অনলাইন শিক্ষাক্রমকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য ও উপযুক্ত করে তোলা যায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here