ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লায় ৬৫ বছর বয়সী নানার সাথে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া নাতনীর বিয়ের খবরে পুরো সোশ্যাল মিডিয়াতে চাঞ্চল্যকর অ’বস্থা বিরাজ করছে। অনেকে তাদেরকে বাবা-মেয়ে বলে গু’জব ছ’ড়াচ্ছেন। এসব ঘটনায় বি’ব্রত অবস্থায় আছেন মো’সাম্মৎ মরিয়ম আক্তার।

জানাগেছে, ৬৫ বছর বয়সী নানার সাথে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া মরিয়ম প্রেম করে গো’পনে বিয়ে করে। তার নানা সামছল হকের ছোট মেয়ে এবং মরিয়ম আক্তার একই ক্লাসের ছাত্রী। মেয়ের বয়সী মরিয়মকে বিয়ে করে আলোচনা স’মালোচনার মুখে পরেন সামছল হক।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার লালমাইয়ের পেরুলে। তবে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় গু’জব ছ’ড়িয়ে পড়ে। তবে আ’সল ঘটনা তারা সম্প্রতি গো’পনে প্রেম করে বিয়ে করেছেন। বৃহস্পতিবার মরিয়ম আক্তার ও সাংবাদিকদের কথোপকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানেও মরিয়ম নিজের পচন্দে বিয়ে করেছেন বলে স্বী’কার করেন।

খোঁ’জ নিয়ে জানা গেছে, উপজে’লার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পেরুল গ্রামের ইমান হোসেন ঢাকায় চাকরি করায় গ্রামে বসবাস করা তার পরিবারের দেখাশুনা করতেন পেরুল দীঘিরপাড়ার রিক্সা চালক সামছল হক।

ইমান আলীর ২য় কন্যা মরিয়ম আক্তার (১৩) স্থানীয় পেরুল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সামছল হক নিজের রিক্সায় তাকে নিয়মিত স্কুলে আনা নেওয়া করতেন।

ক্লাস ফাইভ থেকে মেয়েটির সাথে বৃদ্ধের প্রেম ছিলো বলে জানা যায়। তার রিকশায় স্কুলে আসতে যেতে প্রেম জমে উঠে। যা সিনেমার কাহিনিকেও হার মানায়।

বর সামছল হক বিয়ের ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন। মরিয়ম আক্তার সম্পর্কে আমার নাতনী। দীর্ঘ দিন ধরে তাদের সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক।

তাদের বি’পদে আপদে আমি সবসময় ছিলাম। আসা যাওয়ার মাধ্যমে আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। মরিয়ম আমার রিক্সা করে স্কুলে আসা যাওয়া করত।

এই বুড়ো বয়সে আপনি কেন বিয়ে করছেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমার বউ অ’পারেশনের রোগী সংসারে কাজ করতে পারেনা তাই করেছি। তাছাড়া আমরা দুজনের সম্মতিতেই বিয়ে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ও ১ লক্ষ টাকা উসুলে তাকে আমি বিয়ে করি।

জানা গেছে, কাজের কারনে মাঝে মধ্যে তিনি মরিয়মদের বাড়ীতে রাত্রীযাপনও করতেন। এনিয়ে স্থানীয়রা আ’পত্তি করলে তিনি প্রাপ্ত বয়স হলে মরিয়মের সাথে নিজের ছেলে মনিরের বিয়ে হওয়ার কথা এলাকায় প্রচার করেন।

কিন্তু গত ১০ মে রবিবার সামছল হক সবাইকে হতবাক করে ৫২ বছরের ছোট মরিয়মকে নিয়ে উ’ধাও হয়ে যান। এনিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে ১১ মে সোমবার পেরুল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান লোকমারফত সামছল হক ও মরিয়মকে ইউপি কার্যালয়ে হাজির করে বিস্তারিত জানতে চান।

ওই সময় সামছল হক মরিয়মের প্রাথমিক শিক্ষা সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ ও বিয়ের কাবিননামা উপস্থাপন করেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সনদ ও জন্মনিবন্ধনে মরিয়মের জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ০২/০২/২০০২ইং।

২০০৮ সালে জন্মনিবন্ধনের সময় পরিবারের পক্ষে মরিয়মের বয়স বাড়িয়ে নেওয়ার অ’ভিযোগ রয়েছে সামছল হকের বি’রুদ্ধে। যা আরো চাঞ্চল্যের সৃ’ষ্টি করেছে।

মরিয়ম তো আপনার মেয়ের বয়সী অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে তার বয়স ১৪ বছর আপনি কিভাবে বিয়ে করলেন এমন প্রশ্ন করলে সামছল হক বলেন, মরিয়মের বয়স ২০ বছর তিন মাস। আপনি চেয়ারম্যান অফিসে যান কম্পিউটারে গিয়ে দেখেন।

আপনি কোথায় কোন কাজী অফিসে বিয়ে করেছেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কোটে বিয়ে করেছি। কোন কোটে বিয়ে করেছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আর কিছু বলতে পারব না। আমি মূর্খ মানুষ আপনি চেয়ারম্যানের কাছে যান উনি সব বি’চার করেছে উনি সব জানে এই কথা বলে তিনি ফোন কে’টে দেন।

এবিষয়ে মরিয়মের বাবা ইমাম হোসেন জানান, শামসু আমার বাড়ির কাজ করত। আমি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার পরিবারে বিভিন্ন কাজ সে করে দিত। তাকে আমি খুব বি’শ্বাস করতাম।

সে আমার মেয়েকে প্ররো’চনা দিয়ে বিয়ে করে। সে একজন রিকশাচালক। তার ঘরে স্ত্রী সন্তান রয়েছে। এই বয়স্ক একটা লোকের সাথে আমার মেয়ে কিভাবে সংসার করবে। আমি গরিব বলে কারো কাছে বি’চার পাচ্ছি না।

এবিষয়ে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিয়েটি আ’ইনগত ভাবে হয়েছে। এটি কোন বাল্যবিবাহ নয়। মেয়ের বয়স জন্ম সনদ অনুযায়ী ২০ বছর তিন মাস। আমি ইউনিয়ন পরিষদে তাদেরকে ডেকে সকল কাগজ পত্র দেখেছি। যা উপজে’লা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি।

এ বিষয় লালমাই উপজে’লা নির্বাহী অফিসার ইয়াসির আরাফাত বলেন, বিষয়টি আমি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনেছি। মেয়টির জন্ম সনদ ২০০৮ সালের করা। তখন কার সময় এনালগ ছিল। বিষয়টি আমরা ত’দন্ত করছি।

এদিকে মেয়ের বয়সী মেয়েকে বিয়ে করায় এলাকায় অনেক চাঞ্চল্যকর অবস্থা বিরাজ করছে। জনমনে নানা কথা উঠছে। কাবিননামায় দেখা যায়, গত ১০ মে কুমিল্লা সিটি কর্পোশেনের ৭নং ওয়ার্ড এর নিকাহ রেজিষ্ট্রার মুজিবুর রহমান সরকারের কার্যালয়ে ৫ লক্ষ টাকা মোহরানায় বই নং ৫৪, পৃষ্ঠা নং ২৮ ও ক্রমিক নং ৪৪০-এ তাদের বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয়। কাবিনামায় সামছল হকের জন্মতারিখ ০৩/০১/১৯৫৫ইং উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে সামছল হকের পক্ষে এলাকার কয়েকজন প্রভা’বশালী অবস্থান নেওয়ায় তার প্রথম স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও মরিয়মের পরিবারের সদস্যরা মুখ খুলছে না।

পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম বলেন, জন্মসনদে বয়স বাড়িয়ে ও প্রলো’ভন দেখিয়ে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ ১৩ বছরের কিশোরীকে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। এটা শিশু নি’র্যাতনের অ’পরাধ। মেয়েটির জীবন র’ক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশা’সনের দৃ’ষ্টি কামনা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here