করোনা আতঙ্কে প্রায় দু’মাস ধরে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধপ্রায়। হাসপাতালগুলো অনেকটাই রোগীশূন্য। অনেক চিকিৎসকের গা-ছাড়া ভাবের কারণে এসব হাসপাতালে যেতে রোগীদেরও অনীহা।
এর বিপরীত চিত্র চলছে মতলবে অবস্থিত আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে। সেখানে মা-শিশুদের চিকিৎসা চলছে পুরোদমে। গত ৯ দিনে সেখানে ৩০২ মা ও শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতালটি এখন তাঁদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।
আইসিডিডিআরবির মতলব হাসপাতালের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেখানে গত ৯ দিনে (১ থেকে ৯ মে পর্যন্ত) প্রসবকালীন, প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর চিকিৎসা নিয়েছেন ২৭৮ জন নারী। এ সময় সাধারণ প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) হয় ১৭ জন গর্ভবতী মায়ের। সর্দি, জ্বর ও আমাশয় এবং আরও বিভিন্ন সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিয়েছে ২৪ শিশু। এদের বয়স শূন্য থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া আট অপুষ্ট নবজাতককে ‘ক্যাঙারু মাদার কেয়ার ইউনিটে’ এবং ছয় নবজাতককে বিশেষ ইউনিটে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, ওই নয় দিনে মোট চিকিৎসা নিয়েছে ৩০২ মা ও শিশু। প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৩৪ জন (মা ও শিশু)। এসব মা ও শিশুর বাড়ি চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ এবং ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচরসহ আশপাশের এলাকায়। আজ রোববার দুপুর একটা পর্যন্ত সেখানে চিকিসা নিয়েছেন ৭০ জন মা ও শিশু। চিকিৎসা নেওয়া ওই ৩০২ মা ও শিশুর সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। আজ রোববার ওই হাসপাতালে দেখা যায়, সেখানকার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডই রোগীর উপস্থিতি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডগুলোর পাশাপাশি মা ও শিশু ওয়ার্ডগুলোও রোগীতে ভরপুর। করোনার সংকমণ এড়াতে চিকিৎসক ও নার্সরা ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) পরিধান করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
উপজেলার কলাদী গ্রামের প্রসূতি নারী ফেরদৌসী বেগম (২১) বলেন, প্রসবপূর্ব চিকিৎসা ও সেবা নেওয়ার জন্য আজকে এখানে এসেছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়েছেন। করোনার এ সময়ে এই হাসপাতালটিই এখন তাঁদের একমাত্র ভরসা।
তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক সমস্যা নিয়ে এখানকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে একাধিকবার গিয়েও চিকিৎসা পাননি। করোনার ভয়ে চিকিৎসকেরা সেখানে ভর্তি করা তো দূরের কথা ব্যবস্থাপত্র লিখে দিতেও ভয় পাচ্ছেন। তাঁর মতো অনেকেই এসব হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাননি।
আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর দাস বলেন, করোনার ঝুঁকি থাকা সত্বেও তাঁর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই দুর্যোগে কোনো রোগী বিশেষ করে কোনো প্রসূতি মা ও শিশু যাতে যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here