চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় করোনার প্রভাব কাটিয়ে না উঠতেই বন্যার ছোবলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার মানুস। গত তিন দিনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার অন্তত ১৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫ শ ঘরবাড়ি। পানিবন্দী হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে অর্ধলক্ষ মানুস ।
সরজমিনে দেখা গেছে, মতলব পৌরসভার শীলমন্দি, নাগদা, শোভনকর্দী, উদ্দমদী, চরমুকুন্দি ও চরমাছুয়া, খাদেরগাঁও ইউনিয়নের লামচরী, বালুচর, খাঁসচর, চরচাঁদপুর, মাছুয়াখাল, চরপাথালিয়া ও খাদেরগাঁও গ্রাম এবং নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের নায়েরগাঁওসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের অনেক বাড়িঘরও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের প্রধান প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো দৃশ্যত তিন-চার ফুট পানির নিচে।

এসব এলাকার বন্যার্ত  মানুষজন গত তিন দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে আছে। খেয়ে না খেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। গবাদিপশুর থাকার ঘরগুলোও তলিয়ে যাওয়ায় সেগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যার্ত লোকজন।

উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, আকস্মিক বন্যার পানিতে তাঁর ওয়ার্ডের চারটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি গত মঙ্গলবার থেকে বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। সেখানকার ছয় হাজার লোক তিন দিন ধরে পানিবন্দী। তাঁদের ঘরে খাবার নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। প্রশাসনের উদ্যোগে বেশ কিছু পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তিনি ও তাঁর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বন্যার্ত পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

লামচরী গ্রামের রাজু রানি ও মনি বালা বলেন,‘ তিন দিন ধইরা আমাগো ঘরবাড়ি বন্যার পানির নিচে। ঘরে মাচা পাইতা ছেলেপুুলে নিয়া আছি। পানির লইগা ঘর থেইকা বাহির অইতে পারতাছি না। পকেটে টেয়া-পইসা নাই। ঘরে একরত্তি খাওনও নাই। না খাইয়া দিন কাডাইাতাছি। সরকার আমাগো যে খাওন দিছে তা শেষ অইয়া গেছে। সামনের দিনগুলিতে খামু কী, বাঁচুম ক্যামনে হেই চিন্তায় মরতাছি।’

এদিকে মতলব দক্ষিণ ইউএনও ফাহমিদা হক নায়েরগাঁও দিগন্তকে জানান , গত বৃহস্পতি ও  শুক্রবার (৭ আগস্ট) উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ও খাদেরগাঁও ইউনিয়নের বন্যাকবলিত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। সেখানকার বন্যার্ত অর্ধশতাধিক পরিবারকে এক প্যাকেট করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here