অনলাইন ডেস্ক
কুমিল্লায় মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (৬ জুন) রাতের মধ্যে জেলায় এসব প্রাণহারির ঘটনা ঘটে। একইসময় জেলাজুড়ে করোনার লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও অন্তত আটজন। কভিড-১৯ মহামহারির এই সময়ে একদিনে এতো জনের মৃত্যু এটাই প্রথম।
জানা যায়, শনিবার কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ফারুক (৩৫), কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মিন্টু ধর (৮৫), লক্ষ্মীপুরের রামনগর-জাফরগঞ্জ এলাকার সহিদুল্লাহ (৭৫)। তারা তিনজন কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঢাকার গ্রীন লাইফ হাসপাতালে মারা গেছেন চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আরিফুর রহমানের মা আফিয়া খাতুন (৫৫), ঢাকা হেল্থ অ্যান্ড হোপ ক্লিনিকে কুমিল্লা বিএমএ র সাবেক ইসি সদস্য ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা এবিএম খুরশীদ আলমের পিতা বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মমিনুল হক ও ঢাকার গ্রীন লাইফ হাসপাতালে কুমিল্লা নগরীর ‘আফতাব ব্রাদার্স’র স্বত্বাধিকারী নাসিম উদ্দিন আহমেদ দোলন।
অপরদিকে ঢাকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ধানমন্ডির গ্রীন লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জের খন্দকার লুৎফুননাহার (৪৭)। তিনি শিপিং মন্ত্রণালয়ের সাবেক অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর মোখলেছুর রহমানের স্ত্রী। পরে গতকাল শনিবার বাদ মাগরিব তাকে ইলিয়টগঞ্জে দাফন করে আল রশীদ ফাউন্ডেশন।
এছাড়া কুমেকে হাসপাতালে সাসপেক্টেড করোনা রোগী বুড়িচং উপজেলার নিমসারের আবদুর রশিদ (৭০) মারা গেছেন। একই সময়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা শহরে দু’জন, লাকসামে দু’জন, দেবীদ্বার, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় একজন করে মারা যান বলে খবর পাওয়া গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রদত্ত গতকালের (শনিবার) তথ্যে এসব মৃত্যুর খবর না থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মৃতদের স্বজনদের সাথে কথা বলে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে একদিনে ১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। করোনায় মৃতদের তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রকাশ করে একদিন পর। আর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের নমুনা সংগ্রহের পর ফলাফল পজেটিভ আসলে তা তালিকাভুক্ত করা হয়।
তবে শনিবার দিবাগত রাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা কুমেক আইসোলেশনে চিকিৎসা নেওয়া তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আর কুমিল্লার বাইরে আক্রান্ত কিংবা মারা যাওয়াদের তথ্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সংগ্রহে রাখে না বলে জানিয়েছেন জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন। মানুষজন সতর্ক না হলে কুমিল্লায় সংক্রমণ ও মৃত্যু আরো বড়বে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে গতকাল রাত তিনটায় করোনা উপসর্গ মারা গেছেন ভিক্টোরিয়া ডিগ্রি কলেজ রোডস্থ বাড়ির মালিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি আলী মিয়া পাটোয়ারী। একই সময়ে নগরীর ৬নং ওয়ার্ডে শুভপুর নিবাসী স্বর্ণ ব্যবসয়ী আবুল কাশেম করোনা উপসর্গ নিয়ে ইন্তেকাল করেন। পরে মানবিক সংগঠন ‘বিবেক’র সদস্যরা তার দাফনকার্য সম্পাদন করেন।
কুমিল্লার লাকসামের করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন মো. আবল বাশার ওরফে বাদশা (৪৮) ও মো. ইকরামুল ইসলাম (৪৪) নামে দুই ব্যক্তি। তাদের মধ্যে বাদশা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর ইকরামুল কর্মস্থল চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের বাসায় ইন্তেকাল করেন। পরে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে তাদেরকে দাফন করা হয়।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল আলী করোনা উপসর্গ নিয়ে আবুল বাশার ওরফে বাদশা ও পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর ইকরামুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের নমুনার রিপোর্ট আসলে করোনা ছিল কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একই সময়ে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা মোহনপুর ইউনিয়নের ভোলার বাড়ি নামক এলাকায় হাফেজ আবুল বাশার, বুড়িচং উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধনু মিয়া এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমীর হোসেন সরকার করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ছাত্রলীগ নেতা আমির হোসেন কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলেন জানা গেছে।

কুমিল্লা সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে মৃত্যু এবং আক্রান্তের তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে,

অনেকে মনে করেন কুমিল্লাতে একদিনে অনেক লোক শনাক্ত হয় কিন্তু তিনি তা গোপন রাখে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here