সফিকুল ইসলাম রিংকু :
সৌদি প্রবাসী এক রেমিটেন্স যোদ্ধার বিরুদ্ধে মনগড়া তথ্য দিয়ে বিভিন্ন মহলে মিথ্যাচার করার অভিযোগ উঠেছে আলী আকবর নামের এক ব্যক্তি বিরুদ্ধে। সেই সাথে বাংলাদেশে বসবাসরত ওই প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে বলেও জানা যায়।

মতলব উত্তর উপজেরার দক্ষিণ টরকী গ্রামের অলি উল্ল্যাহ ছেলে মোহাম্মদ হোসেন দেড় যুগ ধরে সৌদি আরবে প্রথমে চাকুরী এবং বর্তমানে ব্যবসা করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রবাসে থাকার সুবাধে তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত। এদিকে আত্মীয়তার সূত্র ধরে উপজেলার উত্তর পাঁচআনী গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে আলী আকবর সৌদিতে গিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের সাথে যৌথ ভাবে ব্যবসা করার উদ্যোগ নেয়। সেই সূত্রে আলী আকবর ২০১৯ সালের আগষ্টে সৌদি আবর পৌঁছে এবং সেপ্টেম্বর মাসে তারা দু’জন মিলে ‘আল মদিনা ফার্নিচার’ নামের দোকান নিয়ে ফার্নিচার বিক্রির ব্যবসা চালু করে। যৌথ ব্যবসার চালুর পর করোনাকালীন সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও মূলধন ঘাটতি থাকার কারণে আলী আকবর বাংলাদেশে চলে আসার সিদ্বান্ত গ্রহণ করে। সে (আলী আকবর) বাংলাদেশে আসার আগে ব্যবসায়ীক ও বসবাসের খরচ বাবদ মোহাম্মদ হোসেনে কাছে ২ লাখ ২২ হাজার টাকা দেনা হয়। আর এই দেনার টাকা বাংলাদেশে পৌঁছে পরিশোধ করার অঙ্গীকার করে আসলেও বর্তমানে আলী আকবর উল্টো মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন মহলে মোহাম্মদ হোসেনের নামে অভিযোগ করছে এবং সামাজিক ভাবে একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা মোহাম্মদ হোসেনের সুনাম ক্ষুন্ন করছে।

প্রবাসী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আত্মীয়তার সূত্র ধরে সৌদি আবর এসে সমান মূলধনে ব্যবসা করার কথা থাকলেও তিনি (আলী আকবর) ব্যবসার জন্য ৫ লাখ টাকা দেন। কিন্তু দোকানের সাজ-সজ্জা ও মালামাল ক্রয়ে সর্বমোট সাড়ে ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালুর পর করোনাকালী সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাবস্থায় কর্মচারীদের বেতন ও দোকান ভাড়া আমাকেই বহন করতে হয়েছে। ব্যবসা চালুর পর আমি বাংলাদেশে গেলে প্রতিষ্ঠানের সমস্ত দায়িত্ব তাকেই দিয়ে যাই। আর সেই সুযোগে সে প্রতিষ্ঠানের অর্থ চুরি করে এবং সৌদি কর্মচারীর নিকট ধরাও খায়। তবুও আমি তাকে কিছু বলেনি, কিন্তু দেশে গিয়ে সে আমার নামে যে মিথ্যাচার করছে তাতে আমি অবাক হয়েছি। তাই আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, সে একজন চোর ও মিথ্যাবাদী।

প্রবাসী মোহাম্মদ হোসেন আরো বলেন, আলী আকবর ব্যবসার মূলধন সমান না করেই করোনা পরবর্তী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির অংশিদার থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশে চলে যাওয়ার সিদ্বান্ত গ্রহণ করে। যৌথ ব্যবসার সময়ে কোথায় কী খরচ হয়েছে তার সম্পূর্ণ বিবরণ (তার নিজ হাতে লিখা ) ও বিভিন্ন কাগজপত্র আমার কাছে আছে। সেই সময়ে আমি সৌদি প্রবাসীদের মধ্যে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলী আকবরের সাথে ব্যবসায়ীক সকল হিসাব-নিকাশ করি এবং টাকা পাওনা হই। পাওনা টাকার বিষয়ে সে স্বেচ্ছায় স্টাম্পে স্বাক্ষর করে এবং দেশে গিয়ে ছয় মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবে বলে অঙ্গীকার করে। আর এই বিষয়টি তার শ্বশুর এবং আত্মীয়তার সম্পর্কে আমার খালু মোঃ জাফর আলী মুঠোফোনের মাধ্যমে অবগত হয়ে টাকার জিম্মা নেন। কিন্তু বাংলাদেশে যাওয়ার পর উল্টো আমার নামে বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে এবং তা সে প্রচার করছে। আমি এর প্রতিকার চাই এবং বাংলাদেশে থাকা আমার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

এই বিষয়ে জাফর আলী বলেন, আমার জামাইয়ের কাছ থেকে জোর করে স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমি বলেছি যাওয়ার হয়েছে, আলী আকবর আগে দেশে আসুন। টাকা-পয়সার বিষয়ে পরে কথা হবে।

আলী আকবর বলেন, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে ঢাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতাম। ভাগ্য উন্নয়নে আত্মীয়তার সূত্র ধরে সৌদি আরব গিয়ে ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু সে (মোহাম্মদ হোসেন) তার কথা রাখেনি। আমাকে বিভিন্ন ভাবে মানসিক চাপে ফেলে স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়। এতে আমার ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি আমার ক্ষতিপূরণ চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here