করোনার মধ্যেও চাঁদপুরের #মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বেশ কয়েকটি খাল দখল করে দোকান ও সেতু নির্মাণ করছেন স্থানীয় লোকজন। এতে হুমকিতে রয়েছে এসব খালের অস্তিত্ব। ব্যাহত হচ্ছে পানির প্রবাহ। পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা ভূমি ও মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১৮টি খাল রয়েছে। এগুলো হচ্ছে #চরপাথালিয়া, #নারায়ণপুর, #নলুয়া, #দিঘলদী, #দূরগাঁও, কাশিমপুর-পুরণ, লক্ষ্মীপুর, সাড়পাড়, #গদা, #পুটিয়া, #লামচরী, তেলী মাছুয়াখাল, শাহাপুর, টেমাই, ধনারপাড়, করবন্দ, #বাইশপুর ও মতলব-বাবুরহাট খাল। এসব খাল ব্রিটিশ আমলের। এগুলো সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, দু-তিন বছর ধরে উপজেলার চরপাথালিয়া, নলুয়া, দিঘলদী, দূরগাঁও, ধনারপাড়, বাইশপুর ও মতলব-বাবুরহাট খালের বেশ কিছু অংশ বেদখল হয়ে আছে। করোনার মধ্যেও থেমে নেই ওই দখলযজ্ঞ। গত এপ্রিল থেকে এসব খালের ৮-১০ ফুট পাড় ও বুকের কিছু অংশ দখল করে অবৈধভাবে শতাধিক দোকান ও বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

সম্প্রতি ঘুরে দেখা গেছে, ওই সাত খালের বিভিন্ন অংশের ওপর আড়াআড়িভাবে স্থানীয় লোকজন বাঁশের সাঁকো ও পাকা সেতু নির্মাণ করেছেন। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১০০ ফুট চওড়া মতলব-বাবুরহাট খালের ওপরই নির্মিত হয়েছে শতাধিক সেতু। এ ছাড়া সেখানকার দুই পাড় দখল করে কয়েক শ দোকানপাট দিয়েছেন লোকজন। এক-দেড় শ লোক ওই খাল দখল করেছেন। বাকি খালগুলোরও কিছু অংশ দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়া হয়েছে। এতে এসব খালে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে নৌযান চলাচলে। প্রস্থ কমতে কমতে এসব খালের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার #মুন্সীরহাট এলাকার চার বাসিন্দা দাবি করেন, জীবিকার স্বার্থে খালের পাড়ে দোকান দিয়েছেন। তবে অসাবধানতাবশত দোকানের কিছু অংশ খালের ভেতর ঢুকে গেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে খাল দখল করেননি।

উপজেলার #বরদিয়া এলাকার কলেজশিক্ষক মো. কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, কয়েক বছর ধরে খাল দখল চলছে।

করোনাকালেও বন্ধ হয়নি এ অপকর্ম। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। উপজেলার মতলব সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক অশোক কুমার রায় বলেন, খাল বা নদী দখল হলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। হুমকিতে থাকে জলজ জীববৈচিত্র্য। খাল দখলের এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হওয়া উচিত।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুশরাত শারমিন বলেন, অবৈধভাবে খাল দখলকারীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও (পাউবো) বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাউবোর সঙ্গে কথা বলে দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here