মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি

উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত। অধিকাংশ মাছ চাষের পুকুরগুলো পানি ছুঁই ছুঁই। কিছু কিছু পুকুরের মাছ পুকুর থেকে চলেও গেছে। এদিকে খালে বিলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন /বংশ বৃদ্ধি উপযুক্ত সময়। এসময় খাল বিলে প্রচুর ছোট মাছ/ মাছের ঝাঁক বিচরন করতে থাকে। আর এসময়ই কিছু অতিলোভী মাছ শিকারী ভেসাল জাল, কারেন্ট জাল দিয়ে, গড়া/বানা চাই পেতে মাছের বংশ নিঃশেষ করার পায়তারা করতে থাকে। মৎস্য রক্ষায় বিভিন্ন অভিযানকালে ভেল বা কারেন্টজালে আটকে পড়া ছোট ছোট মাছের পোনাগুলো দেখলে খুব খারাপ লাগে। এই মাছ গুলো খাওয়ার অযোগ্য, স্বাদহীন। তবুও এগুলো ধরার জন্য কিছু লোক মরিয়া হয়ে যায়। গত ২০ জুলাই মৎস্য আইন বিষয়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরনের পর গত সপ্তাহ জুড়ে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে ২ টি মোবাইল কোর্ট এবং ২ টি অভিযানে ৪২ টি ভেসাল, ৪৭০০০ মি কারেন্টজাল সহ কাঠি চাই, চায়না চাই আটক ও বিনষ্ট করা হয়। এর পরও কেউ সচেতন না। কারো উপর কঠোর হতে আমাদের ভালো লাগেনা, কারন আপনারা আমাদের ভাই, বন্ধু বা বাবার বয়োসী কেউ।
আজ ২৮ জুলাই মৎস্য অধিদপ্তর, চাঁদপুর মহোদয়ের নেতৃত্বে বাবুর হাট খাল থেকে ৬ টি ভেসাল এর অবকাঠামো, উপাদি উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন প্লাবিত নিম্ন জলাভুমিতে স্থাপনকৃত ১২ টি ভেসাল, ৯ টি বানা/ গড়া, ৭ ভেসাল জাল উচ্ছেদ করা হয়।
এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য আবারো জানানো যাচ্ছে আপনারা নিজ নিজ এলাকার এসকল স্থাপনা ও অবৈধ জাল সরিয়ে ফেলুন, আমাদের বার্তা সকলের নিকট দয়া করে পৌছে দিন, আমাদেরকে সহযোগীতা করুন। এই মৎস্য সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব সবার।
আর আমাদের মোবাইল কোর্ট বা অভিযান অব্যাহত থাকবে। কারন আমরা আমাদের মৎস্য সম্পদকে হারাতে দিব না।
মাছে ভাতে বাঙালী – আমাদের এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে আমরা বদ্ধ পরিকর।
” বাংলাদেশ মাছ চাষে বিশ্বে দ্বিতীয়, মাছ আহরণে বিশ্বে পঞ্চম”- আমরা আমাদের এই অর্জনগুলোকে হারাতে চাইনা।
আসুন সবাই আমরা আমাদের মৎস্য সম্পদকে রক্ষায় কার্যকরী ভুমিকা পালন করি।

অনুরোধক্রমে
মোসাঃ ফারহানা আক্তার রুমা
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা
মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here