সফিকুল ইসলাম রিংকু: মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন-দিন অনিয়ম এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে কোন না কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ডাক্তার, নার্স, দালালদের অনিয়ম নিয়ে অনেক অভিযোগ হলেও, কোন এক অশুভ শক্তির কারণে, প্রতিকার পাচ্ছেনা ভুক্তভোগী রোগীরা। মতলবের সচেতন মহল মনে করছেন, এসব দেখার জন্য যেন কারো হাতেই সময় নেই।

তারই ধারাবাহিকতায়, গতকাল (২৫) অক্টোবর অফিস চলাকালীন সময়ে, হাসপাতালে ৩শ টাকা ফি নিয়ে প্রাইভেটে রোগী দেখেন হসপিটালের একজন ডাক্তার ! অহেতুক পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলেন, এমন অভিযোগ উঠে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নিগার সুলতানা’র বিরুদ্ধে।

মতলব পৌরসভার দিঘলদী এলাকা থেকে তাসলিমা (১৮) নামে এক তরুণী’র শরীরে একটি বিশ ফোড়ার চিকিৎসা নিতে ২৫ নভেম্বর (বুধবার) সকাল ১১টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন সেখানে কর্তব্যরতরা রোগীর স্বজনদের আউটডোরে একজন মহিলা ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন।

রোগীর মা লাকী অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে নিয়ে আমি মতলব সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে তারা বলেন হাসপাতালের আউটডোরে একজন মহিলা ডাক্তার দেখানোর জন্য বলে আমার মেয়েকে নিয়ে ডাঃ নিগার সুলতানা’র চেম্বারে গেলে ডাক্তার বলে পাইভেট দেখাবেন ভালো করে দেখে দিবো ৩০০টাকা দেন আমি বলছি মেডাম গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে আসছি ভালো চিকিৎসার জন্য পরে আমি ৩০০টাকা দিয়ে আমার মেয়েকে দেখাই দেখে কয়েকটা টেষ্ট দিয়ে করানোর জন্য বলেন দরজার সামনে থেকে এক মহিলা বলে আসেন মেডাম বলছে নিয়ে যেতে ঐ দালাল মহিলা দি ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে ১হাজার টাকার পরিক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে ডাক্তারকে দেখালে তিনি ঔষধ লিখে বলেন এটা হবে না কালকে হাসপাতালে এসে ফোড়া টা অপারেশন করিয়ে নিয়েন।

জানা যায়, ৫০শষ্যা বিশিষ্ট মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলা বাসির সরকারি চিকিৎসার ভরসাস্থল। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে একের পর এক অভিযোগ নার্সের অবহেলায় হাসপাতালের বারান্দায় সন্তান প্রসব, দালালের দৌরাত্ম্য সহ বিভিন্ন অভিযোগে জর্জরিত। দীর্ঘ দিন ধরে মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন ঘটনা ঘটেই চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, এমন ঘটনা উক্ত হাসপাতালে অহরহই ঘটে চলছে। শুধু এই ডাক্তার নয় আরো নির্দিষ্ট কয়েকজন ডাক্তারের নামেও অফিস টাইমে ৩০০ টাকা ভিজিট নিয়ে রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে। কতৃপক্ষ চেষ্টা করলেও থামানো যাচ্ছে না দালালদের দৌরাত্ম্য।

এব্যাপারে ডাঃ নিগার সুলতানা বলেন, রোগী ভিরের জন্য পাইভেট দেখিয়েছে বলেই আমি দেখেছি। আমি রোগীকে বলেছি টেস্ট গুলো করাতে হবে ওনারা করিয়েছে সমস্যা থাকলে তো আমাকে বলতো।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ গোলাম কাওসার হিমেল বলেন, একের পর এক মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাধারণ জনগন মনে করে, সবার সম্মিলিত চেষ্টা না করলে, এদেরকে থামানো অসম্ভব। “কতৃপক্ষ – প্রশাসন- জনগন” এই তিনের একত্র শক্তিই পারে ঐ দূর্বৃত্তদের থামাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here