আমাদের গৃহিণী মা। যে মায়েদের নেই করোনার ভয়, নেই কোয়ারেন্টিন, নেই লকডাউন, নেই অলসতা কিংবা একঘেঁয়ে সময়। মায়েদের এ এক আজব পেশা, যে পেশায় আমৃত্যু কোন ছুটি হয় না…!

আমি মায়েদের যত দেখি তত বিস্মিত হই.! কতটা সরল-প্রাণবন্ত, কতটা উদার। নেই অভাব-অভিযোগ, নেই বিলাসিতা, নেই আকাশচুম্বী স্বপ্ন, নেই জীবনের পিছু ছোটার তাড়া। স্বামী-সন্তানের সুখটাই যেন তাঁদের জীবনের পরম চাওয়া। করোনা পরিস্থিতিতে বাসায় বসে অনেকে যেখানে অতিষ্ঠ। সেখানে ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিকদের মত মায়েরাও নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পুরো পরিবারকে।

সরকারী-বেসরকারি অফিস বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি মায়েদের কাজ, উল্টো সে কাজের পরিধি আরও বেড়েছে ! সে কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ দিয়ে তাঁদের দিন শুরু। তারপর বিছানাপত্র ঘুছিয়ে উঠোন ঝাড়ু, পরে ঘরে বসে কোরআন তেলোয়াত। তারপরে দিনের কাজের(রান্নাবান্না) জন্য প্রস্তুতি।

প্রতিটা পরিবারে মায়েদের দু’চার ঘন্টা কাজ যখন শেষ, তখন স্বামী-সন্তানদের দিন শুরু হয় ! রোজার সময় দিনে বেলায় কাজের পরিধি কিছুটা কমলেও দুপুর গড়াতেই শুরু হয় ইফতার তৈরির নানান আয়োজন..! এ আয়োজনে খুব কম স্বামী/সন্তানই মায়েদের সহযোগিতা করেন।

আবার অনেক স্বামী/সন্তানরা রমজানে শরবতে একটু চিনি কম হলে কিংবা তরকারিতে লবণ বেশি হলে শুধু করেন চিল্লাফাল্লা। অথচ রোজা রেখে লবণ কিংবা চিনির ভারসাম্য রাখাাটা কঠিন। তবুও মায়েরা নিরবে তা সহ্য করেন। ভোররাতে মায়েরা সবার আগে উঠে ভাত-তরকারি গরম করে সবাইকে সেহরির জন্য জাগান।

সবাইকে খাওয়ানোর সাথে সাথে নিজেও খান। সবার খাওয়া শেষ হলে মায়েদের ধুয়া-মুছার কাজ শুরু হয়। যিনি কখনো রান্নাবান্না কিংবা ধুয়া-মুছার কাজ করেননি তাকে বুঝানো যাবে না এগুলো কতটা কষ্ট ও ধৈর্যের কাজ। মায়েদের এ কাজ কোন বাবাকে একদিন করতে দিলে বাবা নিশ্চিত সংসার ছেড়ে যাযাবর হয়ে রাস্তায় ঘুরবে।

অথচ একজন নারী, একজন মা তা করছেন অামৃত্যু পর্যন্ত। করোনাতে সবার জীবন স্থবির হলেও আগের আট-দশটা দিনের মত চলছে মায়েদের জীবন। একদিন পৃথিবীর অসুখ সারবে।

ডাক্তার, পুলিশ সাংবাদিকরা হাপছেড়ে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। অনেকে দীর্ঘদিনের ছুটিতে যাবে। শুধু ছুটি হবে না আমাদের মায়েদের। কারণ মায়েদের আমৃত্যু ছুটি হয় না..!

লেখকঃ ফাহিম হাসান

সাবেক শিক্ষার্থী,

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here