মতলব উত্তর উপজেলার ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত অ্যাসাইনমেন্ট ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৯ নভেম্বর ওই স্কুলের সম্পা আক্তারের ভাই মো. সাকিল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে অতিরিক্ত হারে টাকা আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয় অভিযোগে। করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে প্রায় ৭-৮ মাস। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট করানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর। কিন্তু এ জন্য কোনো ফি আদায় করা যাবে না বলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। গত ৮ নভেম্বর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে মাউশি। সে অনুযায়ী, সপ্তাহে একদিন প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্টের কাজ সংগ্রহ ও জমা দেবে শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী সম্পা আক্তার, রোল নং ১৬৮ ও নবম শ্রেণির ছাত্রী নাছরিন আক্তার রোল নং ১, দুইজন আপন বোন। তারা কেউ উপবৃত্তি পায় না। তাছাড়া তাদের পরিবারও অসচ্ছল। এই ২ জনের টিউশন ফিসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ৩ হাজার ৬শ টাকা ধার্য করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । সম্পা আক্তারের ১ হাজার ৪০০ টাকা আর নাছরিন আক্তারের ২ হাজার ২০০ টাকা। অভিযোগ দাখিলকারী সাকিল জানান, আমি কিছু টাকা কম দিতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন তা মানেন নি। সম্পার ১৪শ’ টাকার মধ্যে ১ হাজার টাকা দিয়ে এস্যাইনমন্টে নিয়েছি। আমার কাছে রশিদ আছে। আরও ৪শ’ টাকা বাকী আছে। নাছরিনের টাকা দেইনি বলে এসাইনমেন্ট দেননি প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও আরো অনেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ দর্জির যোগসাজসে এধরনের অনিয়ম হচ্ছে বলে ভাষ্য ভোক্তভূগীদের। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল কায়ুম খান বলেন, ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে টাকা আদায় করার অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই স্কুলে দিয়েছি। শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করে টাকা না নেওয়ার ব্যাপারে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ টাকা আদায় করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মোবাইলে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি অ্যাসাইমেন্টের নামে কোন টাকা আদায় করিনি। অভিযোগের ব্যাপারে তিনি অস্বীকার করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here