শোকাবহ আগস্ট জুড়ে সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেয়া হয় নানা আয়োজন। অথচ শোকের এই মাসে ধামরাই উপজেলা প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তারা বংশী নদীতে নৌকাভ্রমণ করেছেন। আর ভ্রমণে তাদের সেই উল্লাসের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে সৃষ্টি হয়েছে।
তবে আওয়ামীলীগের একাধিক নেতাকর্মীরা এই সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নৌকা ভ্রমণ করায় শোকাবহ আগস্ট মাসকে অবমাননার শামিল বলে মনে করছেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারেরও দাবি জানিয়েছেন।
ধামরাই উপজেলা সাংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বেনজির আহম্মেদ বলেন, এই ঘটনা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের শোকের মাসে এভাবে নৌকা ভ্রমণে যাওয়া ঠিক হয়নি। তারা সরকারি অফিস বাদ দিয়ে সরকারি নির্দেশনার বাইরে গিয়ে এই কাজ করেছেন। যা সরকারের প্রতি বৈরীতা ও জাতির পিতার অবমাননার শামিল। তিনি এই ঘটনার দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট দুপুরে ধামরাই উপজেলা প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্র্তারা মিলে নৌকা ভ্রমণের আয়োজন করেন। এতে উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভুমি) অন্তরা হালদার, কৃষি অফিসার আরিফুল হাসান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পশু কর্মকর্তাসহ প্রায় ২০-২৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সরকারী কার্যদিবসে দাপ্তরিক সকল কার্যক্রম ফেলে রেখে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন গুরুত্বপূর্ণ পদের এসব কর্মকর্তাগণ। এমনকি তাদের ওই ভ্রমণের ছবি তুলে নিজেরাই ফেসবুকে প্রচার করেন। এরপর উপজেলা জুড়ে এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে, সমোলচনার মুখে নিজেদের ফেসবুক থেকে নৌকা ভ্রমণের ছবিগুলো সরিয়ে নিলেও এই প্রতিবেদকের হাতে ওই ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি রয়েছে। ছবিতে নৌকা ভ্রমণের জন্য নৌকায় থাকা চেয়ার ও খাবারের চিত্র দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার সকল কর্তা ব্যক্তিদের এমন নৌকাভ্রমণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। শোকের মাসকে উল্লাসে পরিণত করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, একদিকে শোকের মাস। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ। ধামরাইতেও করোনার সংক্রমণ রয়েছে। এছাড়া পুরো উপজেলা বন্যায় নাকাল। যেখানে বন্যার সময়ে কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা চলছে। তারা কোথাও যাননি। কিন্তু নৌকাভ্রমণে তারা ঠিকই গিয়েছে।
তিনি বলেন, শোকের মাস চলছে। এই মাসজুড়ে রাষ্ট্রীয়ভাবেই একটি শোকাবহ পরিবেশ থাকে। তারমধ্যেই তারা এমন চিন্তা কীভাবে করলেন? তাদের এমন ভূমিকা খুবই প্রশ্নবিদ্ধ।
উপজেলাকৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তহমিনা খাতুন বলেন, তিনি ওই দিন তাদের সঙ্গে অংশ গ্রহণ করেনি। অফিসে তার কিছু কাজ ছিলো। এছাড়াও দুপুরের দিকেই তারা বের হয় গিয়েছিলেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্তরা হালদার বলেন, অফিসার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে নৌকা নিয়ে বের হওয়া হয়েছিলো। এ বিষয়ে ক্লাবের সভাপতি ও সেক্রেটারীর সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি বলেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারী আরিফুল হাসান নৌকা নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তারা অফিস শেষে সাড়ে চারটার দিকে রওনা হন।
তবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম দাবী করেন, তারা বেশ কিছু কর্মকর্তা নিয়ে বন্যা কবলিত এলাকা দেখতে গিয়েছিলেন। তবে অফিসিয়াল কোনো ওয়ার্ক নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্বেচ্ছায় তারা নৌকা নিয়ে বের হয়েছিলেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে তিনি বলেন, তারা সবাই বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ বিষয়ে তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করার জন্য তিনি বলেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) শহীদুল ইসলাম এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনের ক্ষুধে বার্তায় তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবী জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here