কনকনে শীত ও ঠান্ডার তীব্রতার সাথে পাল্লা দিয়ে চাঁদপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে অস্বাভিক হারে রোটা ভাইরাজজনিত ডায়রিয়া রোগীর বৃদ্ধি পেয়েছে।

১২ দিনে (১ জানুয়ারি-১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) মতলব হাসপাতালে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৭শ ২৫ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩শ’ শিশু। যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে চারগুণ বেশি। পচা-বাসি খাবার গ্রহণ, অবিশুদ্ধ পানিপান ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এত হারে শিশুরা ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আইসিডিডিআরবির মতলব হাসপাতালের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,১ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২ দিনে সেখানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে মোট ৩ হাজার ৯ শ ২৭ জন। এর মধ্যে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৭শ ২৫ জন শিশু। এসব শিশু শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী। ভর্তিকৃত মোট রোগীর ৯২ শতাংশের বেশি শিশু।

এছাড়া বির্ভিন্ন বয়সী রোগী রয়েছে ২শ’২জন। প্রতিদিনি গড়ে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৩শ জন শিশু। এ সংখ্যা বছরের স্বাভাবিক সময়ের প্রায় চারগুণ বেশি। স্বাভাবিক সময়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ শিশু ভর্তি হয়।

১২ জানুয়ারি মঙ্গলবার বেলা ১টা পর্যন্ত সেখানে ভর্তি হয়েছে মোট ২শ ৪৫ জন ডায়রিয়া রোগী। এর মধ্যে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২শ ২৫ জন।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, মতলব আইসিডিডিআরবি’তে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে চাঁদপুর সদরের ২৫৮, জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮৮, হাজীগঞ্জের ৫৫, কচুয়ার ৬৭, মতলব উত্তরের ৬০, মতলব দক্ষিণের ৫৫, কুমিল্লার বরুড়ার ৩৭০, বুড়িচংয়ের ২৮০, চান্দিনার ২৮৫, কুমিল্লা সদরের ২৫৫, দেবিদ্বারের ২৯৬, দাউদকান্দির ২৮৮, লাকসামের ২৯০, মুরাদনগরের ৩০০, তিতাসের ৩৪০, লক্ষীপুর সদরের ২৭৫, রায়পুরের ১৬৪ ও রামগঞ্জের ২০১ জন। বাকিরা কুমিল্লা, লক্ষীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী ও শরিয়তপুরসহ আরও কয়েকটি জেলার।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আইসিডিডিআরবির মতলব হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সেখানকার প্রতিটি ওয়ার্ডে রোটা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের উপচে পড়া ভিড়। হাসপাতালটির বহির্বিভাগেও আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা চলছে। এসব শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে চিকিৎসক ও নার্সরা ব্যস্ত। এছাড়া রোগী ও রোগীদের সাথে আগত দর্শনার্থীদের জন্য হাসপাতাল আঙ্গিনায় তাবু টানিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কুমিল্লার কুচাইতলী এলাকার শেখ মুজাইয়ার মা ফারজানা চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, গত শুক্রবার থেকে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমি হওয়ায় তাঁর ১৯ মাসের শিশু কন্যা কে নিয়ে কুমিল্লা কুচাইয়াতলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে দুইদিন থাকার পর সুস্থ না হওয়ায় ওই হাসপাতালের চিকিৎকদের পরামর্শে রবিবার দুপুরে মতলব আইসডিডিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখনও অনেকটা সুস্থ।

আইসিডিডিআরবির মতলব হাসপাতালের কেন্দ্র প্রধান ডাঃ আল ফজল খান চাঁদপুর টাইমসকে জানান, এই ডায়রিয়া শিশুর পাতলা পায়খানার সাথে বমি এবং জ্বর থাকতে পারে। এক্ষেত্রে শিশুকে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ এবং ছয় মাসের বেশি বয়সের শিশুদের প্রতিদিন একটি করে বেবিজিন ট্যাবলেট এক চামচ পানিতে গুলিয়ে ১০ দিন খাওয়াতে হবে।স্যালাইন খাওনোর ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকতে হবে। পুনঃ এক প্যাকেট স্যালাইন অবশ্যই আধা লিটার পানিতে গুলে নিতে হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে স্যালাইন ঔষধসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়। রোগীদের ছেড়ে দেওয়ার সময় মায়েদেরকে শিশুদের প্রতি যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here