নিউজ ডেক্সঃ

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেসটিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) সদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় শামীমের নাম আসে। পরে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ফরিদপুরে চাঁদাবাজি ও হামলার মামলা রয়েছে। সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ফরিদপুরে আনা হবে।
এর আগে, গত ১৬ জুন রাতে শহরের মোল্লাবাড়ী সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ১৮ জুন সুবল ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন চন্দ্র সাহা। এরপর ৭ জুলাই পুলিশের বিশেষ অভিযানে সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় গ্রেফতার হন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সেই সময়ের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত, তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ আরও সাতজন। এর পরপরই বরকত ও রুবেলের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তে নামে সিআইডি পুলিশ । তদন্তে প্রাথমিকভাবে বেরিয়ে আসে কোটি টাকা পাচারের সত্যতা।
পরে অবৈধ উপায়ে দুই হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগ তোলা হয় শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে। এরপর তাদেরকে প্রধান আসামি করে গত ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করে সিআইডি। সেই মামলায় আদালতের মাধ্যমে সিআইডি রুবেল ও বরকতকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে  রুবেল ও বরকত উভয়ই অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করেন।
এদিকে জানায় পুলিশ, রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে এ মামলায় শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন গ্রেফতার হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here