ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ক’রোনা ভা’ইরাস পরীক্ষায় ভু’ল রিপোর্টের ফলে অনেক পরিবারে নেমে এসেছে মা’রাত্মক বিপর্যয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেয়া ভু’ল রিপোর্টের কারণে উপজে’লা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স দীর্ঘ ১৪ দিন যাবৎ লকডাউন থাকায় উপজে’লার ৬ লাখ মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত হন।

এদিকে, উপজে’লার বিভিন্ন গ্রাম হতে সংগ্রহ করা ৬০৪ জনের নমুনার মধ্যে ৭০ ভাগই কুমিল্লা মেডিকেলের রিপোর্ট বলে জানা গেছে। এছাড়া, এখনো ৯২ জনের রিপোর্ট প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক সং’শয় ও ক্ষো’ভের সঞ্চার হয়েছে।

এ পর্যন্ত ক’রোনা আ’ক্রান্তের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে ৬৯ জনের। তাদের অন্তত ৫০ জনেরই পরিক্ষার রিপোর্ট কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বলে জানিয়েছেন উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. দেবদাশ দেব।

তিনি বৃহস্পতিবার নাঙ্গলকোটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য দেন। নাঙ্গলকোট উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা, রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন মেশিন ও রোগী পরিবহনসেবা বিঘ্নিত।

স্থানীয় জনগণের ব্যাপক প্রতিবা’দের মুখে বৃহস্পতিবার নাঙ্গলকোট উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স খুলে দেয়া হয়। হাসপাতালের ২৩ চিকিৎসক ও কর্মচারীর নমুনা গত ২০শে মে সংগ্রহ করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠালে ২৩শে মে তাদের পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

এতে জেলাব্যাপী বড় ধরনের আ’তঙ্ক দেখা দেয়। নাঙ্গলকোট সদর হাসপাতাল ও ৫টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক লকডাউন ঘোষণা করায় উপজে’লার সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গত অর্ধ মাস থেকে অচল হয়ে পড়ে।

এতে বিনা চিকিৎসায় গত ১৫ দিনে শতাধিক লোকের মৃ’ত্যু ঘটে। কিন্তু ওই চিকিৎসক ও কর্মচারীদের নমুনা পুনরায় আইইডিসিআর-এ পাঠালে গত বুধবার তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এতে উপজে’লার ৬৯ ক’রোনা আ’ক্রান্ত রোগীর নমুনাও পুনরায় আইইডিসিআর-এ পাঠানোর দা’বি উঠেছে। ক’রোনা পজিটিভ আসা ভু’ক্তভোগী পরিবারগুলো ও সেন্টার ফর সোশ্যাল সার্ভিসেসের পরিচালক অধ্যক্ষ সায়েম মাহবুব ক্ষ’তিপূরণ দাবি করেছেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মক’র্তা ডা. দেব দাশ দেব এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আইডিসিআরের পরিচালক ওই চিকিৎসকদের ক’রোনামু’ক্ত ঘোষণা করে হাসপাতাল খুলে দিতে বলেছেন। কারণ চিকিৎসকদের নমুনা পজিটিভ আসার পর হাসপাতাল লকডাউন করে রাখা হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষার ২৩ মে এর প্রতিবেদনে দেখা যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. শায়লা সারনুন, ডা. নুজহাত মিনহাজ, ডা. নাজমুস সালেহীন, ডা. কাজী মাহফুজ হিজভী, ডা. সাব্বির আহমেদ সিদ্দিকী, ডা. মাহাবুব হাসান, ডা. সাইদুর রহমানসহ ৭ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী তাসলিমা ও মাসুদ হাসানসহ ৯ জনের ক’রোনা পজিটিভ দেখানো হয়।

এর মধ্যে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই টেকনোলজিস্ট হাবিবুর রহমান ও মহিউদ্দিনের করোনা নেগেটিভ দেখানো হয়। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের দেওয়া এই রিপোর্টের কারণে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন করা হয়। এতে উপজে’লার ৬ লাখ মানুষ চিকিৎসা ব’ঞ্চিত হন। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে দেওয়া এ প্রতিবেদন সন্দেহ হয় উপজে’লা স্বাস্থ্য বিভাগের।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজে’লা স্বাস্থ্য কর্মক’র্তা ডা. দেব দাশ দেব জানান, আমরা উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ১১ জনসহ উপজে’লার ৫০ জনের নমুনা ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়’ন্ত্রক ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআরে পুনরায় পরীক্ষার জন্য পাঠাই।

পুনরায় পরীক্ষায় ডা. শায়লা সারনুন, ডা. নুজহাত মিনহাজ, ডা. নাজমুস সালেহীন, ডা. কাজী মাহফুজ হিজভী, ডা. সাব্বির আহমেদ সিদ্দিকী, ডা. মাহাবুব হাসান, ডা. সাইদুর রহমানসহ ৭ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী তাসলিমা ও মাসুদ হাসানের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে।

তিনি আরো জানান, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষার নেগেটিভ দেখানো উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই টেকনোলজিস্ট হাবিবুর রহমান ও মহিউদ্দিনের ক’রোনা পজিটিভ আসে। এই দুজন নিজেদের নেগেটিভ ধরে নিয়ে এতদিন নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here